Header Ads

Header ADS

বাইবেল কি আল্লাহর বাণী? (Is The Bible God's Word) : মুনশী মুহাম্মদ মহিউদ্দীন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক:“বাইবেল কি আল্লাহর বাণী?” বইটি কেন পড়বেন—এ সম্পর্কে পাঠকের জন্য কিছু কথা...

এক.
আমি ভাবতে লাগলাম, আমার মতো কত মুসলমান প্রতিনিয়ত খ্রিষ্টান মিশনারিদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। খ্রিষ্টান প্রচারকরা মুসলমানদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি তারা অতিথিপরায়ণ মুসলমানদের মেহমান হয়ে একদিকে তাদের পরিবেশিত সমুসা-সিঙ্গারা চিবাচ্ছে, অন্যদিকে মুসলমানদের ধর্ম-বিশ্বাসের ওপর কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করছে। তাই আমি সংকল্পবদ্ধ হলাম, মুসলমানদেরকে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং তাদেরকে জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও যুক্তিতর্কের হাতিয়ারে সজ্জিত করতে, যাতে মুসলমানগণ সুসমাচার প্রচারকারী ও মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খ্রিষ্টবাদের ফেরিকারী পাদরি এবং ইসলাম ও ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্লজ্জ কটাক্ষকারী খ্রিষ্টানদের প্রতিহত করতে সমর্থ হন। সেজন্য আমি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া শুরু করলাম যে, খ্রিষ্টানদের এই আক্রমণে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

দুই.
সেসময় যদি আমার এ বই লেখা হয়ে যেত, তাহলে ওই পাদরিকে আমি বইটি পেশ করে বলতাম, মেহেরবানি করে আপনি আপনার নাম-ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর লিখে দিয়ে যান, আমি আপনাকে আমার এই বই—‘বাইবেল কি আল্লাহ
বাণী?’, তিন মাসের জন্য ধার দিচ্ছি। আমি এ বইয়ের লিখিত উত্তর চাই। প্রিয় পাঠক, এখন যদি আপনি ও মুসলমানগণ খ্রিষ্টান পাদরি ও প্রচারকারীদের সাথে এটা করতে পারেন, তাহলে তারা আর কখনো মুসলমানদেরকে অন্ধকারের দিকে
আহ্বানের জন্য তাদের দুয়ারে পা রাখার সাহস পাবে না। আমার বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ, এ ছোটো বইখানা [বাইবেল কি আল্লাহর বাণী?] মুসলমানদের জন্য মহৌষধের মতো কাজ করবে [খ্রিষ্টান মিশনারিদের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য এবং তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য]।

তিন.
আমার এ লেখনী ও বক্তৃতার উদ্দেশ্য হচ্ছে, খ্রিষ্টান মিশনারিদের স্বরূপ উন্মোচন করা, যারা ক্ষেত-খামার ও ব্যবসায় মগ্ন মুসলমানদের মাঝে চুপিসারে খ্রিষ্টবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। এসব রচনা ও বক্তৃতার আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, ধর্মের ফেরিওয়ালা খ্রিষ্টান পাদরিদের আক্রমণে মুসলমানদের ভূলুণ্ঠিত ও ক্ষুণ্ন মর্যাদাকে পুনরুদ্ধার করা। দক্ষিণ আফ্রিকার চ্যাটওয়ার্থ, হ্যানোভার পার্ক অথবা বিভারলিয়ার গরিব মুসলমানদের খবর নিয়ে দেখুন, কীভাবে খ্রিষ্টান মিশনারীদের দৌরাত্ম্যা তাদেরকে হেনস্তা করছে। আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস ‘বাইবেল কি আল্লাহর বাণী?’ বইটি যদি খ্রিষ্টান মিশনারিদের দৌরাত্মের বিরুদ্ধে মুসলমানদের রক্ষাকবচ হিসেবে তাদের ঘরে ঘরে স্থান পায় তাহলে আমার এ শ্রম সার্থক হবে। আমার এ প্রয়াস আরও সফল হবে যদি কোনো যিশু খ্রিষ্টের নিষ্ঠাবান অনুসারী এর মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেয়ে সত্যের পথে ফিরে আসেন।

চার.
[আপনি যদি ধর্মতত্ত্বের ছাত্র হয়ে থাকেন অথবা দাঈ হয়ে থাকেন। তাহলে আপনাকে একটু কষ্ট করতে হবে, একটি বাইবেল আর কিছু রং পেন্সিল সংগ্রহ করতে হবে।] তারপর সেই রং পেন্সিল দিয়ে আপনার বাইবেলে আমার এ বইয়ে
উল্লিখিত রেফারেন্সগুলো দাগ দিয়ে নিতে পারেন। বাইবেলের অসঙ্গতি ও পরস্পর বিরোধী পদগুলোতে হলুদ রং ব্যবহার করতে পারেন। অশ্লীল আলোচনাপূর্ণ পদগুলোতে লাল এবং যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য পদগুলোতে সবুজ রং ব্যবহার করতে পারেন। বইয়ের শুরুতেই বলেছি, বাইবেলের যেসব বক্তব্য আল্লাহর বাণী বা নবীদের বাণী হিসেবে বোধগম্য, সেগুলোতেও আপনি সবুজ দাগ দিতে পারেন। এভাবে প্রস্তুতি নিলে সুসমাচার প্রচারকারী পাদরিদের অযথা
দাবিগুলোকে খ-ন করতে সমর্থ হবেন। চিয়াং কাইশেক বলেছেন, “যদি আমরা আরামের সময় বেশি ঘর্মাক্ত হই, তবে যুদ্ধের সময় আমাদের কম রক্ত ঝরবে।”

পাঁচ
অনুবাদ ও টীকা সম্পর্কে কিছু কথা
গ্রন্থটি যেহেতু তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক এবং অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত তাই অনুবাদের ক্ষেত্রে আমরা সহজ ও সাবলিল ভাষায় ‘আলোচ্যবিষয়’কে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনে টীকা সংযোজন করেছি। বাইবেলের পদের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র অনুবাদ না করে বাংলা বাইবেল থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানভেদে বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি ঢাকা থেকে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘পবিত্র বাইবেল’ (পুরাতন নিয়ম ও নূতন নিয়ম) ও ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘কিতাবুল মোকাদ্দস’ থেকে নেওয়া হয়েছে। কখনো কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘মঙ্গলবার্তা বাইবেল’ (প্রাক্তন সন্ধি ও নব সন্ধি) থেকেও উদ্ধৃত করা হয়েছে। গ্রন্থে উল্লিখিত উদ্ধৃতিগুলো আমরা পুনরায় যাচাই-বাছাই করেছি।
আলহামদুলিল্লাহ! অধিকাংশ উদ্ধৃতি আমরা উদ্ধৃতির মূলগ্রন্থ দেখে উল্লেখ করার বিশেষ প্রয়াস পেয়েছি। তা ছাড়া বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য বাইবেলের বাংলা ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকার সংশ্লিষ্ট কিছু উদ্ধৃতি টীকায় সংযোজন করেছি। উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে যে পৃষ্ঠা নাম্বার মূলগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুবাদে আমরা আমাদের সামনে ওই গ্রন্থের যে এডিশন রয়েছে তার পৃষ্ঠা নাম্বার উল্লেখ করেছি। গ্রন্থে উল্লেখিত উদ্ধৃতিসমূহের বেশির ভাগই যেহেতু খ্রিষ্টান লেখক, গবেষক ও সম্পাদকদের বিভিন্ন গ্রন্থ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের এবং সেগুলো বর্তমানে খুবই দুর্লভ, তাই আমরা প্রতিটি উদ্ধৃতির ফটোকপি প্রত্যেক অধ্যায়ের শেষে সংযুক্ত করে দিয়েছি। পাশাপাশি গ্রন্থের নাম, লেখকের নাম এবং এডিশন জানার সুবিধার্থে মূল গ্রন্থের প্রথম ও দ্বিতীয় পেইজের ফটোকপিও সংযুক্ত করার প্রতি যত্নবান হয়েছি। ষষ্ঠ অধ্যায়ের শেষে ‘নতুন নিয়মের অসঙ্গতি ও পরস্পর বিরোধী বক্তব্য’ শিরোনামে একটি অধ্যায়ের সংযোজন করা হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে বাইবেলের পুরাতন নিয়মের কিছু অসঙ্গতি ও পরস্পর বিরোধী বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের এ অঞ্চলে যেহেতু ‘ইঞ্জিল শরিফ’ তথা নতুন নিয়ম
বেশি প্রচলিত তাই আমরা নতুন নিয়মের অসঙ্গতি ও পরস্পর বিরোধী বক্তব্য তুলে ধরতে একটি অধ্যায় যোগ করেছি। মূলত এ পরিচ্ছেদটি লেখা হয়েছিল পরিশিষ্ট হিসেবে। কিন্তু বিষয়ের ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্যতার দিকে লক্ষ্য করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এটি মূল কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। অধম টীকাকারের পক্ষ থেকে সংযুক্ত।

বই : বাইবেল কি আল্লাহর বাণী? (Is The Bible God's Word)
রচন : ড. আহমেদ দিদাত
অনুবাদ ও টীকা : মুনশী মুহাম্মদ মহিউদ্দীন
প্রচ্ছদ : আবুল ফাতাহ মুন্না
পৃষ্ঠা : ২৮৮
বাঁধাই ধরন : হার্ড ব্যাক
মুদ্রিত মূল্য : ৫০০
প্রকাশনায় : মাকতাবাতুল হাসান Maktabatul Hasan

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.