সবুজ পৃথিবী ও মুসলমানদের অবদান : আহমাদ হারুন
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক: বাজারে কিছু বই রয়েছে, যা বিষয়বস্তুর বিচারে বৈচিত্র্যময় ও নান্দনিক, পাশাপাশি গুণেমানে উন্নত ও রুচিশীল; কিন্তু লাইমলাইটে আসে না। ইসলামি বই গ্রুপগুলোতে ও এই বইগুলো নিয়ে কোনো লেখালেখি হয় না। কারও রিভিউ চোখে পড়ে না। তেমনই একটি বই হচ্ছে মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত “সবুজ পৃথিবী ও মুসলমানদের অবদান” বইটি। বইটির অনূদিত প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তে। আমি বইটি পড়েছি এ বছরের মার্চের মধ্যভাগে।
লেখকের ভূমিকা থেকে-
"বিশ্বের তাবৎ প্রাকৃতিক উৎসের ব্যবহার সকল শর্তমুক্ত নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের পৃথিবী এখন অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এর মূলে রয়েছে এই ভ্রান্ত বিশ্বাস যে, পৃথিবীর সকল কিছুই মানুষেরই এবং সে এর যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারে। মানুষ প্রাকৃতিক উৎসের অবাধ ব্যবহার করেই যাচ্ছে; যার কারণে ভীতিকর এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, একবিংশ শতাব্দীতে এসে প্রাকৃতিক পরিবেশের অশেষ ক্ষয়ক্ষতিগুলো শুধুমাত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষ কি এ ধরণের স্বেচ্ছাচারের মাধ্যমে পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহর কৃপা অর্জন করতে পারে? তাই আমাদের বিবেককে অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে। মানুষজাতি হিসেবে আমরা আমাদের স্রষ্টাপ্রদত্ত দায়িত্ব কতটুকু পালন করছি?
এই ভারসাম্যহীনতা থেকে বাঁচতে হলে মানুষকে সর্বপ্রথম তার স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তার প্রতি অনুগত ও কৃতজ্ঞ থেকে জীবনযাপন করতে হবে। আর তখনই আমরা স্রষ্টার উপহার এই পৃথিবীটার যত্ন নিতে পারব এবং এর যে ক্ষতি করেছি তা পুষিয়ে দিতে পারব।
বিগত চৌদ্দশত বৎসর যাবত মুসলমানরা আল্লাহ প্রদত্ত আমানতের সম্মান করে আসছে। সুন্দর এই পৃথিবীর ধারক – বাহক হিসেবে ইসলামী সমাজ প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ এবং টেকসই সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে।
এই গ্রন্থে পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে সবুজ ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মুসলমানদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো দেখা যাবে সবই সাদামাটা, বাস্তবসম্মত ও পরিবেশবান্ধব। এগুলোর মধ্যে আমরা ইসলামী পরিচয় খুঁজে পাই। দেখা যাবে এগুলোর সবই প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই প্রযুক্তিগুলো ভবিষ্যতেও পরিবেশরক্ষার আন্দোলনে আমাদেরকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
লেখকের ভূমিকার উপরোক্ত অংশবিশেষ থেকে বইটির বিষয়বস্তু ও রচনার লক্ষ্য – উদ্দেশ্য স্পষ্ট হল।
পাঠ- অনুভূতি-
মোট ২৩ টি অধ্যায়ে বইটি ভাগ করা হয়েছে। অধ্যায়ের শিরোনামগুলো চমকপ্রদ; পড়ামাত্র আপনার মনে জানার কৌতূহল উদয় হবে এবং আপনি শিরোনামের মাঝেই বৈচিত্র্যতা অনুভব করবেন। যেমন- ইসলামী বাতাসকল, বাদ্গীরঃ ইসলামী এয়ার কণ্ডিশনার, মাশরাবিয়াঃ ইসলামী শীতাতপ ব্যবস্থা, ইয়াখচালঃ ইসলামী ফ্রিজ ও পায়রা টাওয়ারঃ জৈবসার কারখানা ইত্যাদি। সাজানো গোছানো প্রতিটি আলোচনা সংক্ষিপ্ত হলে ও গবেষকদের জন্য এতে রয়েছে অনেক উপাদান। এছাড়া বইয়ের শেষে যেই আলোকচিত্রগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে, তা বইটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রয়োজনমাফিক টীকা ও সংযোজন করা হয়েছে। আর প্রচ্ছদ ও সাজসজ্জা বইয়ের থিমের সাথে মিল রেখেই চিত্তাকর্ষক গাঢ় সবুজে রঙ্গিন করা হয়েছে। যা আমার নিকট খুব দারুণ লেগেছে।
পরিশেষে বলতেই হয়, বিন্দুতে সিন্ধু সঞ্চিত করার প্রয়াস করেছেন পরিশ্রমী লেখক।
আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান করুন। আমীন।
• বই
• সবুজ পৃথিবী ও মুসলমানদের অবদান
• মূল- লুকমান নাজী
• অনুবাদ- আহমাদ হারুন
• প্রকাশনায়- মাকতাবাতুল হাসান
• মূল্য- ১৩০ টাকা
• পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১১০

কোন মন্তব্য নেই