সোয়াদ : এরদোগান তুজান (তুর্কি)
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক: সোয়াদ। একটি মেয়ে। যার গল্পের পট দু’চোখে অশ্রুসিক্ত করে...
(তৃতীয় পর্ব)
আব্বু আর রাশেদ চাচা উঠে দরোজার দিকে এগিয়ে গেলেন। রাশেদ চাচা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিলেন। আব্বুর সাথে নিচুস্বরে কথা বলছিলেন তিনি। তারপর দরোজার পাশ থেকে ব্যাগটি নিয়ে আব্বুকে দিয়ে বললেন,
এটা ওর ব্যাগ।
ব্যাগের ফাঁক দিয়ে পুতুলের কাপড় দেখা যাচ্ছিল। ব্যাগটা নিয়ে আমি রুমে রেখে দিলাম। আব্বু আর রাশেদ চাচা বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। বেডরুম থেকে সোয়াদের ফোঁপানির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কী করব, বুঝতে পারছিলাম না।
বেডরুমের দরোজা বন্ধ হয়ে গেল। ভেতর থেকে তখন মৃদু শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর সজোরে দরোজাটা খুলে গেল। সোয়াদ দৌড়ে বের হয়ে এলো বেডরুম থেকে। চিৎকার করে বলতে লাগল,
আব্বু! আব্বু! আমাকে রেখে যেয়ো না। আমাকে তোমার সাথে নিয়ে যাও...
আম্মু ওকে ধরে রাখতে পারলেন না। ও দৌড়ে রাশেদ চাচার দিকে যেতে লাগল। ড্রয়িং রুম পেরুনোর সময় সোয়াদ আব্বুর সাথে ধাক্কা খেল। আব্বু শক্তকরে সোয়াদের হাত ধরলেন। সোয়াদ তখন বাইরে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। ঝাঁকুনি লেগে ওর চুলের বাঁধন খুলে চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর সোয়াদ শান্ত হলো। আব্বু ওকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তারপর আদর করে বললেন,
কেঁদো না মা, তোমার আব্বু কদিন বাদেই তোমাকে দেখতে আসবেন।
আম্মু সোয়াদের হাত ধরে ওকে কোলে তুলে নিলেন। চুলগুলো গুছিয়ে দিয়ে মায়াভরে ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন,
এসো আম্মু, তোমার হাতমুখ ধুয়ে দিই। তারপর আমরা সবাই মিলে গল্প করব।
আম্মু সোয়াদকে নিয়ে বাথরুমে গেলেন। আব্বু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর চোখ মুছে বললেন,
এখন থেকে সোয়াদ আমাদের সাথে থাকবে। আজ থেকে তুমি ওর ভাই। কেমন?
* * *
শীতের এক দীর্ঘ রাত শুরু হলো। বাইরে সবকিছু ঢেকে যাচ্ছে তুষারে। আগে যখন জানালার পর্দা ওঠাতাম, যতদূর চোখ যায়, সারিসারি শুকনো নাশপাতি, পীচ, আর তুতগাছ চোখে পড়ত। এখন হয়তো গাছের কঙ্কাল চোখে পড়বে, না হলে দেখা যাবে সবুজ গাছ তুষারে শুভ্র হয়ে আছে।
তীব্র শীতের সাথে যোগ হয়েছে রাতের নিকষ কালো অন্ধকার। বাইরে তাকালেই ভয় ধরে যায় মনে। তাড়াতাড়ি জানালার পর্দা নামিয়ে আমার রুমে চলে এলাম।
সোয়াদ সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটাল। রাতের খাবারের পর আব্বু চমৎকার একটি গল্প শোনালেন। গল্পের মাঝে আম্মু বললেন,
আপাতত সোয়াদ আহমাদের রুমেই ঘুমাতে পারে, কী বলো?
আমার একটু তন্দ্রাবেশ ভাব এসেছিল। আম্মুর কথা শোনার সাথে সাথে ঘুম চলে গেল। আমি বললাম,
আমার রুমে! না, আমি আমার রুমে কাউকে থাকতে দেব না।
আব্বু গল্প বলা বন্ধ করে আম্মুর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
আসলে সোয়াদকে দেখে ভালো বলেই মনে হচ্ছিল, কিন্তু আমি ওকে পছন্দ করতে পারছিলাম না। কারণ ও আমার সবকিছুতে ভাগ বসাতে শুরু করেছে।
আমার কথা শুনে আম্মু চুপ করে রইলেন। আব্বু বললেন...।
সোয়াদ বই থেকে চলবে...।
বই
সোয়াদ
মূল : এরদোগান তুজান (তুর্কি)
আরবি অনুবাদ : রেফা মোহাম্মদ সালেহ
বাংলা রূপায়ণ : আবু তালহা সাজিদ Abu Talha Sazid
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬০
বাঁধাই ধরন : হার্ড ব্যাক
মুদ্রিত মূল্য : ২৬০
প্রকাশনায় : মাকতাবাতুল হাসান
(তৃতীয় পর্ব)
আব্বু আর রাশেদ চাচা উঠে দরোজার দিকে এগিয়ে গেলেন। রাশেদ চাচা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিলেন। আব্বুর সাথে নিচুস্বরে কথা বলছিলেন তিনি। তারপর দরোজার পাশ থেকে ব্যাগটি নিয়ে আব্বুকে দিয়ে বললেন,
এটা ওর ব্যাগ।
ব্যাগের ফাঁক দিয়ে পুতুলের কাপড় দেখা যাচ্ছিল। ব্যাগটা নিয়ে আমি রুমে রেখে দিলাম। আব্বু আর রাশেদ চাচা বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। বেডরুম থেকে সোয়াদের ফোঁপানির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কী করব, বুঝতে পারছিলাম না।
বেডরুমের দরোজা বন্ধ হয়ে গেল। ভেতর থেকে তখন মৃদু শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর সজোরে দরোজাটা খুলে গেল। সোয়াদ দৌড়ে বের হয়ে এলো বেডরুম থেকে। চিৎকার করে বলতে লাগল,
আব্বু! আব্বু! আমাকে রেখে যেয়ো না। আমাকে তোমার সাথে নিয়ে যাও...
আম্মু ওকে ধরে রাখতে পারলেন না। ও দৌড়ে রাশেদ চাচার দিকে যেতে লাগল। ড্রয়িং রুম পেরুনোর সময় সোয়াদ আব্বুর সাথে ধাক্কা খেল। আব্বু শক্তকরে সোয়াদের হাত ধরলেন। সোয়াদ তখন বাইরে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। ঝাঁকুনি লেগে ওর চুলের বাঁধন খুলে চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর সোয়াদ শান্ত হলো। আব্বু ওকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তারপর আদর করে বললেন,
কেঁদো না মা, তোমার আব্বু কদিন বাদেই তোমাকে দেখতে আসবেন।
আম্মু সোয়াদের হাত ধরে ওকে কোলে তুলে নিলেন। চুলগুলো গুছিয়ে দিয়ে মায়াভরে ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন,
এসো আম্মু, তোমার হাতমুখ ধুয়ে দিই। তারপর আমরা সবাই মিলে গল্প করব।
আম্মু সোয়াদকে নিয়ে বাথরুমে গেলেন। আব্বু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর চোখ মুছে বললেন,
এখন থেকে সোয়াদ আমাদের সাথে থাকবে। আজ থেকে তুমি ওর ভাই। কেমন?
* * *
শীতের এক দীর্ঘ রাত শুরু হলো। বাইরে সবকিছু ঢেকে যাচ্ছে তুষারে। আগে যখন জানালার পর্দা ওঠাতাম, যতদূর চোখ যায়, সারিসারি শুকনো নাশপাতি, পীচ, আর তুতগাছ চোখে পড়ত। এখন হয়তো গাছের কঙ্কাল চোখে পড়বে, না হলে দেখা যাবে সবুজ গাছ তুষারে শুভ্র হয়ে আছে।
তীব্র শীতের সাথে যোগ হয়েছে রাতের নিকষ কালো অন্ধকার। বাইরে তাকালেই ভয় ধরে যায় মনে। তাড়াতাড়ি জানালার পর্দা নামিয়ে আমার রুমে চলে এলাম।
সোয়াদ সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটাল। রাতের খাবারের পর আব্বু চমৎকার একটি গল্প শোনালেন। গল্পের মাঝে আম্মু বললেন,
আপাতত সোয়াদ আহমাদের রুমেই ঘুমাতে পারে, কী বলো?
আমার একটু তন্দ্রাবেশ ভাব এসেছিল। আম্মুর কথা শোনার সাথে সাথে ঘুম চলে গেল। আমি বললাম,
আমার রুমে! না, আমি আমার রুমে কাউকে থাকতে দেব না।
আব্বু গল্প বলা বন্ধ করে আম্মুর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
আসলে সোয়াদকে দেখে ভালো বলেই মনে হচ্ছিল, কিন্তু আমি ওকে পছন্দ করতে পারছিলাম না। কারণ ও আমার সবকিছুতে ভাগ বসাতে শুরু করেছে।
আমার কথা শুনে আম্মু চুপ করে রইলেন। আব্বু বললেন...।
সোয়াদ বই থেকে চলবে...।
বই
সোয়াদ
মূল : এরদোগান তুজান (তুর্কি)
আরবি অনুবাদ : রেফা মোহাম্মদ সালেহ
বাংলা রূপায়ণ : আবু তালহা সাজিদ Abu Talha Sazid
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬০
বাঁধাই ধরন : হার্ড ব্যাক
মুদ্রিত মূল্য : ২৬০
প্রকাশনায় : মাকতাবাতুল হাসান

কোন মন্তব্য নেই