তাতারিদের ইতিহাস : ড. রাগেব সারজানী
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক: তাতার সম্প্রদায়ের উত্থান, মুসলিম খিলাফার রাজধানী বাগদাদ আক্রমণের
পূর্বাপর ইতিহাস, ততকালিন মুসলমানদের সামগ্রিক অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করা হয়েছে "তাতারিদের ইতিহাস" বইয়ে।
ইমাম কুতয রহ. এর কাছে এছাড়া বলার মতো কিছুই ছিল না! যে জাতি পরাজিত হতে হতে এতোটাই বিধ্বস্ত হয়েছিল যে মাথা উঁচু করে বাচার স্বপ্ন দেখতেও ভুলে গিয়েছিল সে জাতির দায়িত্ব স্বেচ্ছায় কাধে তুলে নেয়া একজন সিপাহসালার আর কিই বলতে পারতেন?
ইসলামের ইতিহাসেতো বটেই মানব জাতির ইতিহাসেও ভয়াবহ যে কয়টা মানবতাবিরুধী ভয়াবহ আগ্রাসন ঘটেছিল তার মধ্যে তাতারিদের হামলা অন্যতম। মুসলিম খেলাফতের রাজধানী বাগদাদকে ঘিরে গড়ে উঠা শিল্প জ্ঞান ও শিক্ষার সভ্যতাকে মাটিতে পিষে দিতে তাতারিদের কয়েক সপ্তাহ লেগেছিল মাত্র। তখন আব্বাসী খেলাফতের সর্বশেষ খলিফা মু'তাসিম বিল্লাহর খেলাফত। রাজ্য স্বাধিকার জাতিয়তাবাদ তখন মুসলমানদের মাঝে দানা বাধতে শুরু করেছে। রাজধানী বাগদাদে তখনও প্রায় তিন কোটি মুসলমানের বসবাস। মুসলমানরা যখনই ইসলাম থেকে দূরে সরে যায় তখন জিল্লতিই হয় তাদের শেষ পরিণিতি। স্বেচ্ছাচার, ঘুষ, সুদ, জুলুম, অন্যায়, ভোগ-বিলাস, বিতর্ক, শরাব আর নর্তকী যখন মুসলিম আমির উমারাদের বালাখানায় সয়লাব হয়, নিমকহারামরা হয় খলিফার আপন জন, জিহাদে যেতে ভীতু হয় তখন তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত সাধারণ জনগণকেই করতে হয় নইলে দুই লক্ষ তাতার সেনাবাহিনী কে রোধ করতে বাগদাদের এক লক্ষ বিশ হাজার সেনাবাহিনী আর ষাট লাখ সক্ষম পুরুষ ব্যর্থ হবে কেনো! হাতি ঘোড়া, অস্ত্রশস্ত্র গুলো গুদাম ঘরেই পরেছিল যখন তাতার নরপশুরা মুসলমানদের কচুকাটা করছিল। চল্লিশদিনে তিন মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছিল তাতার পাষাণ্ডরা। বৃদ্ধ যুবক শিশু মহিলা এমনকি মায়ের পেটের শিশুও রেহায় পায়নি এই জানোয়ারদের হাত থেকে! সভ্যতার এই শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদ মাদ্রাসা বাসাবাড়ি রাস্তাঘাট পাঠাগার কোন কিছুই। দীর্ঘ দুই শতাব্দী পরিশ্রম গবেষণায় পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় পাঠাগারকে নিক্ষেপ করেছিল টাইগ্রিস নদীতে যার ফলে নদীর পানি ছয় মাস কালো হয়েছিল! কী ভয়ানক তাণ্ডব চালিয়েছিল তা ভাবতেও গা শিউরে উঠে। প্রতিরোধ করেছিল মাত্র দশ হাজারের ছুট্ট একটা দল।আলেমদের নেতৃত্বে অসম এক লড়াই করে সম্মানের মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিল।
বইয়ের অর্ধেক অংশ পড়ারপর যখন ঐ সময়ের মুসলমানদের মতো পাঠকও পরাজয় জিল্লতিকে নিয়তি মেনে নিতে শুরু করেন তখনই মঞ্চে আগমন ঘটে একজন দাসের। বাগদাদ বিজয়ের পর এক তাতার পৃথিবী গড়ার লক্ষে একেরপর এক রাষ্ট্র বিধ্বস্ত করে তাতার বাহিনী এগিয়ে চলছিল। জলের বাণের মতো বালির বাধকে উড়িয়ে দিচ্ছিল। হয় বশ্যতা নয় মৃত্যু। কেয়ামতের পদধ্বনি দেখতে পাচ্ছিল মুসলমান রাজা বাদশাহরা তার পরও তারা ছিল জিহাদ থেকে বেখবর!
এশিয়া ইউরোপ তাতারদের করতলগত। পঙ্গপালের মতো তাতার বাহিনী এগিয়ে চলছে মুসলিম মিশরের দিকে। মিশরে তখন চলছে হেরেম কূটনীতি। রাজা যাচ্ছে আসছে! আমির উমারারা সবাই সিংহাসনের লোভী। একসময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলো মাত্র ১৬ বছরের এক নাজুক বালক। বিচক্ষণ সেনাপতি সাইফুদ্দিন কুতযকে বানানো হলো তার অভিভাবক। আল্লাহ তায়ালার আজিব কারিশমা! যুগের শ্রেষ্ঠ মুজাহিদকে পৌঁছে দিলেন কাংখিত সিঁড়ির দেরগোড়ায়। সুবাহানাল্লাহ। সাইফুদ্দিন কুতয অক্ষম বালক রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিশরের ক্ষমতা নিজের হাতে নিলেন। নিজের বিচক্ষণতা দিয়ে মিশরের বিবাদমান রাজ্য, আমির উমারা, আলেম উলামা ও সাধারণ জনগণকে এক পতাকা তলে জমা করলেন। জিহাদের মন্ত্রে সবাইকে উত্তাল করে তুললেন। তাতার বাহিনী ক্রমশ এগিয়ে আসছিল মিশরের দিকে তাই মাত্র চারমাস সময়ের মধ্যে নিজের সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তাতার বাহিনীর মিশর আসার অপেক্ষা না করে ফিলিস্তিনের পথে এগিয়ে চললেন।
আইনুন জালুত! এ সেই ময়দান যেখানে ক্রুসেডারদের চুরান্ত পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছিলেন বীরদের বীর সালাহুদ্দিন আইয়ুবী রহ.। এই মাঠেই এসে নিজেদের তাবু গাড়লেন যুগের শ্রেষ্ঠ মুজাহিদ ইমাম কুতয রহ.। নিজের ভঙ্গুর সেনাবাহিনী নিয়ে বিশ্বের অপারাজেয় তাতার বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়ালেন! জানবাজ এই মুজাহিদ গায়ের বর্ম পড়িয়ে দিলেন অধিনস্ত সেনার গায়ে। লৌহকঠিন মুষ্ঠিতে একহাতে তুলে ধরলে দিগ্বিজয়ী তলোয়ার অন্য হাতে ইসলামের পতাকা। শাহাদাতের পিপাষায় তৃষ্ণার্ত হৃদয় নিয়ে বাঘের মতো শিকাড়কে তাড়া করলেন সবার সামনে থেকে আর চিৎকার করে বলছিলেন "হায় ইসলাম, হায় ইসলাম"................
বইয়ের কথাঃ লেখক পুড়ো বইটিতে চারটা বিষয়ের সমন্যয় ঘটিয়েছেন। ইতিহাস, ইতিহাসের প্রেক্ষাপটের সাথে মিল রেখে কোরআন ও হাদীস, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও উপদেশ।এটাই এই বইয়ের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক বলাচলে যা অনেক পাঠকে আকর্ষণ করে। সে হিসেবে লেখকের পছন্দকৃত নাম "কিচ্ছাতুত তাতার" স্বার্থক বলা চলে। ইতিহাসের সাথে প্রাসঙ্গিকতার বাড়াবাড়ি অনেকসময় পাঠের ধারাবাহিতাকে ব্যাহত করে। পাঠক ধৈর্য ধরে কিছুক্ষণ আগালে বইয়ে মজা পেয়ে যায়। ইতিহাসপ্রিয় পাঠকের কাছে "তাতারিদের ইতিহাস" সমাদৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে সন্দেহ নেই।
বই
তাতারিদের ইতিহাস
মূলবই- কিচ্ছাতুত তাতার
লেখক- ড. রাগেব সারজানী
অনুবাদ- মাওলানা আব্দুল আলীম
সম্পাদনা- মুহাম্মাদ যাইনুল আবেদিন
প্রকাশনায়- Maktabatul Hasan
পৃষ্টা সংখ্যা- ৩৯৮
বাঁধাই ধরন- হার্ড ব্যাক
মূদ্রিত মূল্য- ৪৪০
রিভিউ লেখক- সাকিব মুস্তানসির
হায় ইসলাম.......হায় ইসলাম.......
ইমাম কুতয রহ. এর কাছে এছাড়া বলার মতো কিছুই ছিল না! যে জাতি পরাজিত হতে হতে এতোটাই বিধ্বস্ত হয়েছিল যে মাথা উঁচু করে বাচার স্বপ্ন দেখতেও ভুলে গিয়েছিল সে জাতির দায়িত্ব স্বেচ্ছায় কাধে তুলে নেয়া একজন সিপাহসালার আর কিই বলতে পারতেন?
ইসলামের ইতিহাসেতো বটেই মানব জাতির ইতিহাসেও ভয়াবহ যে কয়টা মানবতাবিরুধী ভয়াবহ আগ্রাসন ঘটেছিল তার মধ্যে তাতারিদের হামলা অন্যতম। মুসলিম খেলাফতের রাজধানী বাগদাদকে ঘিরে গড়ে উঠা শিল্প জ্ঞান ও শিক্ষার সভ্যতাকে মাটিতে পিষে দিতে তাতারিদের কয়েক সপ্তাহ লেগেছিল মাত্র। তখন আব্বাসী খেলাফতের সর্বশেষ খলিফা মু'তাসিম বিল্লাহর খেলাফত। রাজ্য স্বাধিকার জাতিয়তাবাদ তখন মুসলমানদের মাঝে দানা বাধতে শুরু করেছে। রাজধানী বাগদাদে তখনও প্রায় তিন কোটি মুসলমানের বসবাস। মুসলমানরা যখনই ইসলাম থেকে দূরে সরে যায় তখন জিল্লতিই হয় তাদের শেষ পরিণিতি। স্বেচ্ছাচার, ঘুষ, সুদ, জুলুম, অন্যায়, ভোগ-বিলাস, বিতর্ক, শরাব আর নর্তকী যখন মুসলিম আমির উমারাদের বালাখানায় সয়লাব হয়, নিমকহারামরা হয় খলিফার আপন জন, জিহাদে যেতে ভীতু হয় তখন তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত সাধারণ জনগণকেই করতে হয় নইলে দুই লক্ষ তাতার সেনাবাহিনী কে রোধ করতে বাগদাদের এক লক্ষ বিশ হাজার সেনাবাহিনী আর ষাট লাখ সক্ষম পুরুষ ব্যর্থ হবে কেনো! হাতি ঘোড়া, অস্ত্রশস্ত্র গুলো গুদাম ঘরেই পরেছিল যখন তাতার নরপশুরা মুসলমানদের কচুকাটা করছিল। চল্লিশদিনে তিন মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছিল তাতার পাষাণ্ডরা। বৃদ্ধ যুবক শিশু মহিলা এমনকি মায়ের পেটের শিশুও রেহায় পায়নি এই জানোয়ারদের হাত থেকে! সভ্যতার এই শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদ মাদ্রাসা বাসাবাড়ি রাস্তাঘাট পাঠাগার কোন কিছুই। দীর্ঘ দুই শতাব্দী পরিশ্রম গবেষণায় পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় পাঠাগারকে নিক্ষেপ করেছিল টাইগ্রিস নদীতে যার ফলে নদীর পানি ছয় মাস কালো হয়েছিল! কী ভয়ানক তাণ্ডব চালিয়েছিল তা ভাবতেও গা শিউরে উঠে। প্রতিরোধ করেছিল মাত্র দশ হাজারের ছুট্ট একটা দল।আলেমদের নেতৃত্বে অসম এক লড়াই করে সম্মানের মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিল।
বইয়ের অর্ধেক অংশ পড়ারপর যখন ঐ সময়ের মুসলমানদের মতো পাঠকও পরাজয় জিল্লতিকে নিয়তি মেনে নিতে শুরু করেন তখনই মঞ্চে আগমন ঘটে একজন দাসের। বাগদাদ বিজয়ের পর এক তাতার পৃথিবী গড়ার লক্ষে একেরপর এক রাষ্ট্র বিধ্বস্ত করে তাতার বাহিনী এগিয়ে চলছিল। জলের বাণের মতো বালির বাধকে উড়িয়ে দিচ্ছিল। হয় বশ্যতা নয় মৃত্যু। কেয়ামতের পদধ্বনি দেখতে পাচ্ছিল মুসলমান রাজা বাদশাহরা তার পরও তারা ছিল জিহাদ থেকে বেখবর!
এশিয়া ইউরোপ তাতারদের করতলগত। পঙ্গপালের মতো তাতার বাহিনী এগিয়ে চলছে মুসলিম মিশরের দিকে। মিশরে তখন চলছে হেরেম কূটনীতি। রাজা যাচ্ছে আসছে! আমির উমারারা সবাই সিংহাসনের লোভী। একসময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলো মাত্র ১৬ বছরের এক নাজুক বালক। বিচক্ষণ সেনাপতি সাইফুদ্দিন কুতযকে বানানো হলো তার অভিভাবক। আল্লাহ তায়ালার আজিব কারিশমা! যুগের শ্রেষ্ঠ মুজাহিদকে পৌঁছে দিলেন কাংখিত সিঁড়ির দেরগোড়ায়। সুবাহানাল্লাহ। সাইফুদ্দিন কুতয অক্ষম বালক রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিশরের ক্ষমতা নিজের হাতে নিলেন। নিজের বিচক্ষণতা দিয়ে মিশরের বিবাদমান রাজ্য, আমির উমারা, আলেম উলামা ও সাধারণ জনগণকে এক পতাকা তলে জমা করলেন। জিহাদের মন্ত্রে সবাইকে উত্তাল করে তুললেন। তাতার বাহিনী ক্রমশ এগিয়ে আসছিল মিশরের দিকে তাই মাত্র চারমাস সময়ের মধ্যে নিজের সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তাতার বাহিনীর মিশর আসার অপেক্ষা না করে ফিলিস্তিনের পথে এগিয়ে চললেন।
আইনুন জালুত! এ সেই ময়দান যেখানে ক্রুসেডারদের চুরান্ত পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছিলেন বীরদের বীর সালাহুদ্দিন আইয়ুবী রহ.। এই মাঠেই এসে নিজেদের তাবু গাড়লেন যুগের শ্রেষ্ঠ মুজাহিদ ইমাম কুতয রহ.। নিজের ভঙ্গুর সেনাবাহিনী নিয়ে বিশ্বের অপারাজেয় তাতার বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়ালেন! জানবাজ এই মুজাহিদ গায়ের বর্ম পড়িয়ে দিলেন অধিনস্ত সেনার গায়ে। লৌহকঠিন মুষ্ঠিতে একহাতে তুলে ধরলে দিগ্বিজয়ী তলোয়ার অন্য হাতে ইসলামের পতাকা। শাহাদাতের পিপাষায় তৃষ্ণার্ত হৃদয় নিয়ে বাঘের মতো শিকাড়কে তাড়া করলেন সবার সামনে থেকে আর চিৎকার করে বলছিলেন "হায় ইসলাম, হায় ইসলাম"................
বইয়ের কথাঃ লেখক পুড়ো বইটিতে চারটা বিষয়ের সমন্যয় ঘটিয়েছেন। ইতিহাস, ইতিহাসের প্রেক্ষাপটের সাথে মিল রেখে কোরআন ও হাদীস, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও উপদেশ।এটাই এই বইয়ের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক বলাচলে যা অনেক পাঠকে আকর্ষণ করে। সে হিসেবে লেখকের পছন্দকৃত নাম "কিচ্ছাতুত তাতার" স্বার্থক বলা চলে। ইতিহাসের সাথে প্রাসঙ্গিকতার বাড়াবাড়ি অনেকসময় পাঠের ধারাবাহিতাকে ব্যাহত করে। পাঠক ধৈর্য ধরে কিছুক্ষণ আগালে বইয়ে মজা পেয়ে যায়। ইতিহাসপ্রিয় পাঠকের কাছে "তাতারিদের ইতিহাস" সমাদৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে সন্দেহ নেই।
বই
তাতারিদের ইতিহাস
মূলবই- কিচ্ছাতুত তাতার
লেখক- ড. রাগেব সারজানী
অনুবাদ- মাওলানা আব্দুল আলীম
সম্পাদনা- মুহাম্মাদ যাইনুল আবেদিন
প্রকাশনায়- Maktabatul Hasan
পৃষ্টা সংখ্যা- ৩৯৮
বাঁধাই ধরন- হার্ড ব্যাক
মূদ্রিত মূল্য- ৪৪০
রিভিউ লেখক- সাকিব মুস্তানসির

কোন মন্তব্য নেই